পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মাগুরার বাজারজুড়ে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। জুতা, পোশাক, কসমেটিকস, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় কুকারিজ পণ্য, টেইলার্স, হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফলের দোকান প্রায় সব খাতেই অস্বাভাবিক দামে পণ্য ও সেবা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের বৈঠকখানার নিচে, বেবি প্লাজার সামনে অবস্থিত ‘ম্যাগপাই’ জুতার শোরুমে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানে দেখা যায়, ১,৬০০ টাকার জুতা ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যে প্রায় ১,৯০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় কর্মকর্তারা বিক্রয় রশিদ, মেমো ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সময় কর্মকর্তারা দোকানের ভেতরে পণ্যের মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাবপত্র ও রশিদ সরেজমিনে পরীক্ষা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা সজল আহমেদ বলেন, রমজান এলেই একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে। জুতা থেকে শুরু করে পোশাক, কসমেটিকস, ওষুধ, কুকারিজ, মোবাইল ফোন, টেইলার্স, হোটেল ও ফলের দোকান সবখানেই অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানের সময় জেলা পুলিশের সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ বিষয়ে শোরুম কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি বলেন, সব পণ্যে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে এমনটি সঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পোশাক এমনকি খাবারের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জুতা, পোশাক, কসমেটিকস, ওষুধ, কুকারিজ, টেইলার্স, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফলের দোকানসহ সব খাতে একযোগে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে এই মুনাফা সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে।
এএন