শালিখায় কৃষি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, প্রণোদনা বণ্টনে গরমিলের দাবি

মাগুরা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি কৃষি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি এবং প্রণোদনা বণ্টনে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একাধিক প্রকল্পের মাস্টার রোল, মজুদ ও বিতরণ রেজিস্টার, পরিবহন এবং শ্রমিক বিল-ভাউচার চাওয়া হলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তা সরবরাহে দেরি হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব কৌশলে নিরাপদ ফসল উৎপাদন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ, রাজস্ব খাতভিত্তিক কৃষি কার্যক্রম, অনাবাদি জমিতে পুষ্টি বাগান স্থাপন, কৃষি প্রণোদনা বিতরণ (২০২৫–২৬) এবং কৃষক প্রশিক্ষণ ও সম্মানি প্রদান কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে ব্যয় বেশি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে মাস্টার রোল ও বিল-ভাউচার গোপন রাখার মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ ও পরিবহন খাতে অনিয়ম আড়াল করা হচ্ছে।

শালিখার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকের নাম প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের তালিকায় থাকলেও তাঁরা কোনো বীজ, সার বা অর্থ সহায়তা পাননি। উপজেলার কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেছেন, তাঁদের নামে প্রণোদনা দেখানো হলেও বাস্তবে কিছুই পৌঁছেনি। আবার কারও কারও অভিযোগ, পুষ্টি বাগান প্রকল্পে চারা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা হয়নি।

কৃষকেরা বলছেন, সময়মতো বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় বোরো, আউশ ও আমন মৌসুমে চাষাবাদে প্রভাব পড়েছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি খরচ বেড়েছে। রবি মৌসুমে পুষ্টি বাগান ও বহুমুখী ফসল প্রকল্পে অনিয়মের কারণে উৎপাদন বৈচিত্র্যও কমেছে।

শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “সব তথ্য একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব নয়, সময় লাগবে।” তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন জানান, “তথ্য দিতে অনীহা কেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঈদের ছুটির পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষি খাতে আস্থা ফিরবে।

এএন