কুড়িগ্রামে জ্বালানি সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশতেই পেট্রোল ও অকটেন নেই। এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। জেলায় দৈনিক ৪ লক্ষ লিটার জ্বালানির চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি। ঈদের ছুটিতে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ পাম্পে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না।

সোমবার কুড়িগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। খলিলগঞ্জের এসএস ফিলিং স্টেশনের পরিচালক জামান কাজল জানান, চাহিদার চার ভাগের এক ভাগও পূরণ না হওয়ায় প্রতিদিন ক্রেতাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে। অনেক পাম্পে জনপ্রতি ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না, তাও সব স্টেশনে মিলছে না। আতাউর রহমান ও জুয়েল নামে দুই মোটরসাইকেল চালক জানান, ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সামান্য তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সীমিত পরিসরে কয়েকটি পাম্প খোলা থাকলেও তেলের অভাবে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকরা। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রীসেবা।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বিশেষ মনিটরিং টিম নিয়মিত ফিলিং স্টেশনগুলো পরিদর্শন করছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি যেন না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেএইচআর