কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযানে সোয়া ৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এলএসডিসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার মিরপুর রেলস্টেশন এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’-এ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ট্রেনের একটি বগিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় এলএসডি (প্রতি বোতল ৫০ মিলি) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এলএসডির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, মাদকগুলো সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেশে এনে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। তবে অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এরপর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও প্রাগপুর নদীর ঘাট এলাকায় পৃথক আরও দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আশ্রায়ন বিওপি ও প্রাগপুর বিওপির চৌকস টহল দল অংশ নেয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং পাতার বিড়ি জব্দ করা হয়। এসব পণ্য অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দকৃত অন্যান্য মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
সব মিলিয়ে জব্দ হওয়া মাদক ও চোরাচালানী পণ্যের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অবৈধ ওষুধ এবং অন্যান্য চোরাচালান পণ্য প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সিন্থেটিক ড্রাগ বা উচ্চমূল্যের মাদক পাচার ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এএন