ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালনগর ইউনিয়নের হোনারো গোষ্ঠীর রহিম তালুকদার গ্রুপ এবং চৌরা গোষ্ঠীর কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
নিহতরা হলেন গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম মুফতী মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০), তিনি মো. হান্নান মিয়ার ছেলে এবং কাশেম মিয়া সমর্থিত ছিলেন। অপর নিহত আক্তার হোসেন (৫০), গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে; তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আহতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কাশেম মিয়ার পক্ষের লোকজনের দাবি, রহিম তালুকদার আগের রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক শতাধিক লোক ভাড়া করে আনেন এবং সকালে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইমাম হাবিবুর রহমান টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে রহিম তালুকদারের পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, কাশেম মিয়ার লোকজনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এনে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে তা দ্রুত বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর ইসলাম জানান, পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।
জেএইচআর