গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মাগুরায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ ২৫ মার্চ মাগুরা জেলা শহরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহরের নোমানী ময়দানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মনোয়ার হোসেন খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধানরা।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, “২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৭১ সালের এই রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালানো হয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাঁদের স্মৃতি আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করতে হবে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “গণহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়, এটি আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার দিন। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম।”

সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, “শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজ স্বাধীন দেশে বসবাস করছি। সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।”

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এবং পরবর্তী সময়ে মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। বিশেষ করে ঢাকা-মাগুরা সড়কের পাকা ব্রিজ এলাকায় বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ওই স্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ বধ্যভূমিগুলোতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে গণহত্যা দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এএন