রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে যাত্রীবাহী একটি বাস। দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি বুধবার বিকেলে ঘটে, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে বা স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীর এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষজন উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। একইসঙ্গে উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, যা নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া বাসটি শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ করছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে অনেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছুটে আসছেন ঘাট এলাকায়। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিতে ওঠার সময় অতিরিক্ত গতি, ব্রেকের ত্রুটি অথবা চালকের অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। নদীতে ডুবে থাকা বাসটি শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
এএন