মতলবে ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙেছে অন্তত ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, ৪ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎবিহীন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

ঝড়ের তাণ্ডবে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অন্তত ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। অন্তত ৬০ জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়েছে। ফলে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষ ২০ ঘন্টারও অধিক সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল হতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগবে।

উপজেলায় ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক ও ৪শ' শিল্প গ্রাহক রয়েছে। ১টি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্তত ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা, ২টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ২৪ ঘন্টারও অধিক সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল হতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর উপজেলা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলাকায় প্রচণ্ড বেগে ঝড় বইলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ঝড়ের কারণে অন্তত ২৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যায়।

গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার কারণে অন্তত ৬০টি জায়গায় মেইনলাইনের তার ছিঁড়ে গেছে।

উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা স্থানীয় দিনমজুরদের সঙ্গে রাতভর বিরামহীন কাজ চালাচ্ছেন। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল করতে সময় লাগবে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন।

সরেজমিনে উপজেলার একলাশপুর, কলাকান্দা, রাড়ীকান্দি, পাঁচানী, কালিপুর, ছটাকি, মোহনপুর, সুজাতপুর, গজরা, ষাটনলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খুঁটি উপড়ে পড়ে থাকতে এবং গাছ ও গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের উপর পড়ে তার ছিঁড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর ফলে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বেশ কয়েকজন আবাসিক গ্রাহক জানান, তাদের ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাবার বিদ্যুৎবিহীন থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জানান, যাদের জেনারেটর নেই, ২৪ ঘন্টার বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকলে তাদের ফ্রিজে থাকা কেমিক্যাল নষ্ট হয়ে যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্যাকসিন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ভাষান চন্দ্র কীর্তনীয়া জানান, আমাদের স্টোরে ১২০০ থেকে ১৫০০ শিশুকে দেওয়ার মতো ভ্যাকসিন রয়েছে। জেনারেটর না থাকায় ২৪ ঘন্টার বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকলে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে না।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মতলব উত্তর উপজেলা জোনাল অফিসের এজিএম (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাঈম জানান, আমাদের অফিসের আওতায় উল্লেখযোগ্য গ্রাহকরা হলেন: ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক এবং ৪শ' শিল্প গ্রাহক।

ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সচল করতে দিনমজুরদের নিয়ে আমরা বিরামহীন কাজ চালাচ্ছি। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে সামান্য কিছু লাইন সচল হতে পারে। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছাতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।

এএন