রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মহানগরীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বক্তারা এই হামলাকে পরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, চাঁদা দাবি করার একটি চক্রকে প্রত্যাখ্যান করায় তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতদিন পার হয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী বলেন, মামলার প্রধান আসামি নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নুরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে রাজশাহীতে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমান (উপ-পুলিশ কমিশনার) জানান, মামলাটি নিয়মিত তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের গোয়েন্দা টিম তৎপর রয়েছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
জেএইচআর