কাউনিয়ায় ৪ দিন ধরে পাম্পে নেই পেট্রোল-অকটেন, স্বল্প ডিজেলে ভোগান্তি চরমে

মো. সাইফুল ইসলাম, কাউনিয়া (রংপুর) প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুরের কাউনিয়ার যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে অল্প পরিমাণে ডিজেল পাওয়া গেলেও চার দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন একেবারেই মিলছে না।

রোববার মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, টানা পাঁচ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের কারণে বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘুরতে বের হওয়া সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। সংকট না কাটায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানান, গত পাঁচ দিন পর ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও শুধু ডিজেল দেওয়া হয়েছে। পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় গ্রাহকদের চাপও প্রচণ্ড। এছাড়া চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে ডিজেল বরাদ্দ পাওয়ায় সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। স্টেশনটিতে টানা ৫৪ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন না থাকার কারণে যে অল্প পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ আসছে, তা দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষক, মোটরসাইকেল চালক ও সাধারণ পরিবহন চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

উপজেলা ও পৌরসভায় মোট দুইটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দের কারণে দুটি স্টেশনের একই অবস্থা। এতে স্টেশনগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের তকিপল বাজার এলাকায় শাহ আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী আমজাদ হোসেন বলেন, “নাতনিকে আনতে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছি। তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। ঈদের সময় এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না।”

মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনের পাশে কথা হয় ভুতছাড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছি। পরিবার নিয়ে ঘুরাঘুরি করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কোথাও পেট্রোল পাচ্ছি না। এটা খুবই ভোগান্তিকর।”

ফিলিং স্টেশনের সামনে রাজিব নামে একজন পরিবহন চালক জানান, “ডিজেল যে পরিমাণ আসে, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যায় না। কোথাও কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল মিলছে। এই ভোগান্তির শেষ কবে হবে তা জানা নেই।”

স্থানীয়রা জানান, “গত দিনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে মোটরসাইকেল চালাতে পারছি না। দৈনন্দিন চলাফেরা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ভাড়া যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে, আর এজন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। আমরা খুবই কষ্টে আছি।”

মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তারা পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। এছাড়া ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ডিজেল বিক্রির পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে সবাই অন্তত কিছুটা করে পান।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন এবং ডিপো থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও কৃষকরা। তারা জানান, দ্রুত সমাধান না হলে জনজীবন ও কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

এএন