মাদারীপুরে তীব্র ডিজেল সংকট, সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

মাদারীপুরে চলতি বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কৃষকদের করুণ চিত্র। ওই এলাকার কৃষক সিরাজ মহাজন এবার দুই একর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপণ করেছেন। রোপণের শুরুতে সেচ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ থাকায় তার ধানক্ষেতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এখন ধানের ফলন আসার সময়। এই মুহূর্তে পানি না দিতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। কোথাও তেল পাচ্ছি না, আধা লিটার-এক লিটার করে তেল জোগাড় করে কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছি। এভাবে চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।”

শুধু সিরাজ মহাজনই নন, ফেরিঘাট গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক কৃষকের একই দশা। তেলের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল।

সেচ পাম্প মালিক ও জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ডিপো থেকেই তারা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না।

খান ফিলিং স্টেশনের সাহে জামায়াত খান রোকন বলেন, কৃষকরা দীর্ঘ লাইন দিয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ৫০০ বা ১০০০ টাকার তেল পাচ্ছেন তারা, যা দিয়ে পুরো জমি সেচ দেওয়া সম্ভব নয়।

জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। মাদারীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুম জানান, তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত অভিযান ও বাজার তদারকি পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাদারীপুরের উপ-পরিচালক ড. রহিমা খাতুন কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। কৃষকের সেচ প্রকল্পগুলো সচল রাখতে জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এএন