মাগুরায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদ ও পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। “দৈনিক আমার সংবাদ” ও “দি ডেইলি পোস্ট”-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরই জেলায় শুরু হয়েছে একাধিক ফিলিং স্টেশনে টানা অভিযান ও মোবাইল কোর্ট।
জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে পাম্পে পাম্পে হানা দিয়ে মজুদ পরিস্থিতি যাচাই, সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণ অনুসন্ধান এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
তবে মাঠের চিত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী পাম্প মালিক সিন্ডিকেট জেলার জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, মজুদ থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে পাম্প বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি এবং শ্রমিক সংকটের অজুহাতে সরবরাহ সীমিত করার মতো কৌশলে বাজার অস্থির করে তোলা হচ্ছিল।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনে তেল নেই, রাতে বিক্রি এ যেন এখন স্বাভাবিক চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সাধারণ মানুষকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কৃষক, পরিবহন চালক থেকে শুরু করে জরুরি সেবায় নিয়োজিতরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিশেষ করে একই মালিকানার একাধিক পাম্পে তেল মজুদ থাকার পরও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতিকে সামনে এনে দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এতদিন প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোরতা না থাকায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো পাম্প মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। লাইসেন্স স্থগিত থেকে শুরু করে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এএন