বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য গুদামের জেটির জায়গা দখল করে রাতের আঁধারে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমি দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল থেকেই অবৈধ স্থাপনার সামনে চেয়ারে বসে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। এর আগে গত সোমবার গভীর রাতে বড় ব্রিজ সংলগ্ন খাদ্য গুদামের সামনের জমি দখল করে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানটি খাদ্য গুদামের চাল ও ধান লোড-আনলোডের জেটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ সেখানে দোকান নির্মাণ শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে জায়গাটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলছেন, সরকারি কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গায় রাতারাতি দোকানঘর গড়ে ওঠা অত্যন্ত রহস্যজনক।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, “সবার চোখের সামনে এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন দখল কীভাবে সম্ভব হলো?”
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, জায়গাটি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে খাদ্যগুদামের চাল ও ধান পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং এতে জনস্বার্থে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, হাসান আকন, শাহাদাত, খান এমাদুল, বাবুল (ব্যাংক বাবুল) এবং তার ছেলে রকি এই দখলবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, প্রতিটি দোকান প্রায় ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দখল দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহাগ বাদশা জানান, “সকালে এসে হঠাৎ দেখি খাদ্যগুদামের সামনে কয়েকটি দোকানঘর উঠানো হয়েছে। কে বা কারা এগুলো নির্মাণ করেছে, তা আমরা জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এই জমিটি সরকারি খাদ্যগুদামের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দাবি, সরকারি এই জমি যেন সরকারেরই থাকে এবং কোনোভাবেই দখলদারদের হাতে না যায়।”
খাদ্যগুদাম সংলগ্ন ব্যবসায়ী শাহাদাত ফিটার জানান, রাত ১২টার পর এসব ঘর তোলা হয়েছে। এখানে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে এবং রাতে তাদের ডিউটি থাকে। তিনি বলেন, “এই জমিটি খাদ্যগুদামের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, সরকারি এই জমি দ্রুত দখলমুক্ত করে আগের মতো খাদ্যগুদামের কাজে ব্যবহার করার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাসলিম আক্তার জানান, “পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি দায়িত্বে ফিরলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি জায়গি দখলমুক্ত হয় কি না।
এএন