চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর বাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, আগ্নেয়াস্ত্রসহ বহিরাগতদের নিয়ে তারই ভাতিজা মাহাবুব পাটওয়ারী ও আবু জাফর পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং এ সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৬টায় ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে ৬টি গাড়ি নিয়ে প্রায় শতাধিক লোক অস্ত্রশস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে আসে। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। তারা হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করে এবং বাড়ির প্রতিটি ঘরের জানলায় কালো কাপড় বেঁধে দেয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিক আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও কনস্টেবল সুমনের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত আবু জাফর পাটওয়ারী দাবি করেন, এটি আমাদের সম্পত্তি। গত ৫ আগস্টের পর মোতাহার পাটওয়ারী জোরপূর্বক এখানে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। আমরা আমাদের সম্পত্তি দখলমুক্ত করেছি।
অন্যদিকে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তারা শতাধিক সন্ত্রাসী এনে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে আমার সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে। এত অস্ত্র নিয়ে বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেল, অথচ প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারল না। তারা মাঝেমধ্যেই ভয়ভীতি দেখিয়ে এমন তামাশা শুরু করে।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।” তবে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) লুৎফুর রহমান জানান, বহিরাগতদের দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এই ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
জেএইচআর