মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের রণক্ষেত্র, গ্রেপ্তার ১৩

মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

মাদারীপুর সদর উপজেলার থানতলী ও পাকদী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

গত ২৯ ও ৩০ মার্চ থানতলী এলাকার ফজল খা গ্রুপ এবং পাকদী এলাকার দবির মুন্সী গ্রুপের মধ্যে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাব বিস্তার নিয়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা থানতলী, পাকদী ও গোলাবাড়ী জজকোর্ট মিল সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট ও বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উচ্ছৃঙ্খল কিশোররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মুন্না (২৫), হাসান (২৫), মৃত্তুন জয় (২১), শাহাদৎ (৩৫), ফেরদৌস বেপারী (৩৬), শাকিল বেপারী (২২), মাসুদ শেখ (৩৫), সজল (২২), জিহাদ (১৬), বেল্লাল (১৫), ইমন মোল্লা (১৫), তানভীর খান (১৫) এবং সাকিল। তারা মাদারীপুরের পাকদী, থানতলী, মধ্য ধুলগ্রাম, সনমন্দি ও কুন্তিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেএইচআর