মাগুরায় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য ৫১৬ নম্বর কক্ষে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহসিন উদ্দিন বলেন, হাম সংক্রামক রোগ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতায় এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আমরা আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করেছি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির জানান, হাম প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করছেন। একজন রোগীর অভিভাবক জানান, আলাদা ওয়ার্ডে নিবিড় চিকিৎসা ও তদারকি পেয়ে তারা স্বস্তি বোধ করছেন।
মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। হাম দেখা দেওয়ার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আমি সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। বিষয়টি সংসদেও উপস্থাপন করা হয়েছে। মাগুরার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদানের পাশাপাশি দ্রুত আক্রান্ত শনাক্ত ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে মাগুরা সদর হাসপাতালের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও শৃঙ্খলা সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
জেএইচআর