ড্রেজিং ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাফল্য

মামুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন এসেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন কার্যকর এবং সাশ্রয়ী মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।

পরিকল্পিত ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতে অতীতের তুলনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর তত্ত্বাবধানে হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় এবং ড্রেজিং কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে ঠিকাদাররা দায়িত্বশীলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। এরফলে গত এক বছরে চবকের নিজস্ব ড্রেজার ব্যবহারে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। চবকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তদারকির মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে কর্ণফুলী নদীর গুরুত্বপূর্ণ নেভিগেশনাল চ্যানেলগুলোতে নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকে। বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

সেই সঙ্গে সদরঘাট থেকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উজান পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার এলাকায় নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খাল সমূহে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে লাইটার জাহাজ সহ অন্যান্য নৌযান সমূহ সমন্বিতভাবে বার্থিং করছে, যার ফলে নৌদূর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শহরের সাথে সংযুক্ত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখে ড্রেজিং পূর্বক নাব্যতা রক্ষা করা হয়েছে, যা কর্ণফুলী নদীতে পানি নির্বিঘ্নে প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষার সময় শহরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য অংশে দীর্ঘমেয়াদী হাইড্রোমরফোলজিক্যাল অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতি বজায় থাকে এবং পলি জমার হার কমেছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর সহ ব্যক্তিমালিকানাধীন জেটি/বার্থ সমূহ উপকৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক খাল ড্রেজিং করলে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হত, যা চবকের উদ্যোগে সাশ্রয় হয়েছে।

ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরেই শক্তিশালী হয়নি, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারাকে বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্য প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

এএন