স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সব শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ প্রজন্ম গড়া সম্ভব

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলেছেন, “দেশের সব শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে একটি নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং ইনশাআল্লাহ টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।” 

রোববার সকালে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় প্রায় ২৮ হাজার শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শিশুদের কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকাদানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকা প্রদান করেন। টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মুঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর জেলা প্রশাসক নূরুল কবির ভূঁইয়া এবং পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। তাঁরা টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রশংসা করেন।

টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী মির্জাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাদের দূরে যেতে হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে মির্জাপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাবেন। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।

এএন