গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গ্রাহকের আমানতের প্রায় ৮ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন রুহি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর মাঠকর্মী এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব রুবেল।
টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধি রাজা মিয়া।
শনিবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন ধোপাডাঙ্গার নতুন বাজারে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রুহি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসাবে দায়িত্বরত থাকার সময় আহসান হাবীব রুবেল বিভিন্ন জনের নামে ঋণ দেওয়ার কথা বলে নিজেই উক্ত টাকাগুলো ভুয়া গ্রাহক দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ০১/০৬/২০২৪ থেকে ১৯/১০/২০২৫ পর্যন্ত টাকার হিসাব চাইলে ৭,৯১,৮৪০ টাকা (সাত লাখ একানব্বই হাজার আটশত চল্লিশ) আত্মসাৎ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এক পর্যায়ে সে চাকরীকালীন অবস্থায় উধাও হয়।
পরে তার আশেপাশের লোকজনের তাগাদার ফলে ২২/১০/২০২৫ তারিখে উক্ত টাকা প্রদানের অঙ্গিকার করে তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রাপ্ত টাকা দেওয়ার অঙ্গিকারনামা সম্পাদন করে। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর একাধিকবার পাওনা টাকা ফেরতের তাগাদা দিলে সে টাকা ফেরত না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা গ্রহণের অস্বীকৃতি জানায়। এছাড়াও নিজেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে পরিচয় দিয়ে বলেছে, টাকার বিষয়ে বেশি চাপ দিলে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়।
রাজা মিয়া আরও বলেন, “আমাদের ক্ষুদ্র সমবায়ীদের মোটা অংকের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ায় আমি মহা বিপাকে পড়েছি। সে ছাত্রদলের নেতা হওয়ায় টাকা চাইতে গেলে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মামলা এবং হামলার হুমকি দেয়। তাই আমাদের সমিতির টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে সাবেক মাঠকর্মী এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব রুবেল বলেন, “আমি মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতাম। মাঠে তিন-চার লাখ টাকার মতো ঋণ দিয়েছি যা এখনও আদায় করতে পারিনি। স্ট্যাম্পে দুই বছরের মধ্যে কিস্তি আকারে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার করেছি। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি, বাকি টাকাগুলোও পরিশোধ করবো। তবে স্ট্যাম্পের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি।”
এএন