পাবনার ঈশ্বরদীতে মাত্র আধা কিলোমিটার পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলাচলের অনুপযোগী পাকা রাস্তাটিই এখন ওই এলাকার পথচারীদের গলার কাঁটা।
জানা গেছে, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর-মানিকনগর (দাউদ ব্যাপারীর বাড়ি থেকে তিনশিমুলতলা) পর্যন্ত দুই গ্রামের সংযোগস্থল এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রায় এক যুগ আগে সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিল এলজিইডি দ্বারা। ফলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে গাড়ি উল্টে যাওয়ার খবরও পাওয়া যায়। গত তিন বছর ধরে এই ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক পথচারী ও যানবাহন ২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন।
পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই জরাজীর্ণ রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। উপজেলার অনেক রাস্তা সংস্কার হলেও এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে রাস্তাটির যেসব স্থানে গর্ত আছে, সেসব গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে চলাচল করা আরও কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন মানিকনগর, জয়নগর, বক্তারপুরসহ আশেপাশের এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এবং ছোট-বড় কয়েকশ যানবাহন চলাচল করে। এই অঞ্চলে লিচুর ব্যাপক চাষ হওয়ায় বিশেষ করে লিচুর মৌসুমে বড় বড় ট্রাক ও পিকআপ চলে এই রাস্তায়। এছাড়াও ঈদুল আযহার সময় এই এলাকা থেকে বড় বড় ট্রাক দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পশু পরিবহন করা হয়। বর্তমানে রাস্তাটি জরাজীর্ণ অবস্থায় হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও যথেষ্ট ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই লিচু ও পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চলাচলকারী পথচারীরা।
এ বিষয়ে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল বলেন, “দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি সংস্কার করা জরুরি। ইতিমধ্যে উপজেলায় মাসিক মিটিংয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেছি। তবে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনে সংযোগ সম্ভব হয়নি।”
এএন