নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও পূর্বধলা পৌরসভা পুনর্বহালের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি এখন সময়ের দাবি।
জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলীর উদ্যোগে ২০০৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পূর্বধলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৮টি এবং আগিয়া ইউনিয়নের ২টি মৌজা নিয়ে পূর্বধলাকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। এ ঘোষণায় এলাকাবাসী আনন্দ মিছিল করে স্বাগত জানায়। পরবর্তীতে বিএনপি নেতা মুশতাক আহমদকে পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং উপজেলার পুরাতন কোর্ট ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।
সে সময় পৌরসভার আওতায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন সেবা পৌরনাগরিক হিসেবে প্রদান করা হতো।
কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেсат হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক পৌরসভা বাতিলের উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার প্রভাবে পৌরবাসী আব্দুল হামিদ তালুকদারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্বধলা পৌরসভা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পৌরসভা বাতিলের পরও কিছুদিন ভূমি নিবন্ধন ও নিকাহ রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলমান ছিল। তবে পৌরসভার তহবিলে জমাকৃত অর্থের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত একটি রোড রোলার বর্তমানে উপজেলা পরিষদ মাঠে অযত্নে পড়ে আছে, যার বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ ইতিমধ্যে নষ্ট বা চুরি হয়ে গেছে।
পরে পৌরসভার পক্ষে আদালতে রিট করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়, ফলে পূর্বধলাবাসীর পৌরসভা ফিরে পাওয়ার আশা স্তিমিত হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আরিফুজ্জামান বলেন, “অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমরা পৌরসভা পেয়েছিলাম এবং এর সুফলও ভোগ করছিলাম। হঠাৎ বাতিল হওয়ায় আমরা হতাশ হই। ২০২৩ সালের ৫ জুলাই পৌরসভা পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত পূর্বধলা পৌরসভা বাতিল করা ছিল একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমরা দ্রুত এর পুনর্বহাল চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, “পৌরসভা বাতিলের সিদ্ধান্তটি ছিল হঠকারী। আমি সংসদে এ বিষয়ে কথা বলব এবং পূর্বধলা পৌরসভা পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
এএন