চুয়াডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সদর হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান।
সভায় জানানো হয়, ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতি বছর ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাকে অনেক সহজ ও আধুনিক করে তুলেছে।
সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তবে একটি সুস্থ জাতি গঠনে নিরাপদ পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও রিফাত আরা স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, বাজেট ও জনবল সংকটের কারণে এখনো প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি ১ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র ০.৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তবে আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তবে অনেকাংশেই রোগমুক্ত থাকা সম্ভব।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা এবং দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক বিপুল আশরাফ। অনুষ্ঠানে মেডিকেল অফিসার ডা. শামীমা ইয়াসমিন, নার্সিং সুপারভাইজার রেহানা পারভীনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও আন্তরিক হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জেএইচআর