লালমনিরহাটে মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম বিকাশ ও নগদ ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. রুবেল বিশ্বাস (২৮), ইউসুফ মোল্লা (৫০) ও টিটু মোল্লা (৩০)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির স্মার্টফোন এবং একাধিক সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর আদিতমারী উপজেলার আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা প্রতারকরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিভ্রান্ত করে তার বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের ওটিপি (OTP) সংগ্রহ করে। এরপর সুকৌশলে তার বিকাশ থেকে ৩২ হাজার ৭০০ টাকা এবং নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার নাম করে তারা আরও ২৩ হাজার টাকা দাবি করে এবং বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাগুরা থেকে প্রথমে রুবেল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে চক্রের অন্য দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লালমনিরহাট ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি শক্তিশালী আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপরিচিত কাউকে ওটিপি বা পিন কোড না দেওয়ার জন্য সাধারণ গ্রাহকদের পুনরায় সতর্ক করেছে পুলিশ।
জেএইচআর