নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে সাহিদা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবার করা মামলায় স্বামী মোনাইদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
নিহত সাহিদা আক্তার পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোনাইদ হোসেন বছরখানেক আগে সাহিদাকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। সেই মামলা থেকে বাঁচতে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাহিদাকে বিয়ে করেন। এটি মোনাইদের দ্বিতীয় বিয়ে হলেও বিয়ের পর থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবার সাহিদার ওপর ৬ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, দরিদ্র বাবার পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে গত ২৯ মার্চ স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অপমানে অতিষ্ঠ হয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই রাতেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১ এপ্রিল নিহতের বাবা বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রধান আসামি মোনাইদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের বাবার দাবি, মোনাইদ একজন মাদকসেবী ও জুয়াড়ি এবং তাঁর নির্যাতনের কারণেই তাঁর মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
জেএইচআর