শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাম্প্রতিক নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান তাদের চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাদের মানসিকভাবে সাহস জোগান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে জামায়াত আমীর বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।” তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং দলীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলনসহ প্রমুখ।
এদিকে, তার আগমনকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আগে থেকেই হাসপাতালে উপস্থিত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি নির্বাচনি উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনটি (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাগুলো স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জেএইচআর