পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী বৈসাবী উৎসব শুরু হয়েছে। এই উৎসব ঘিরে পাহাড়জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব শুরু হয়। রোববার ভোরে পাহাড়ি নারীরা বাগান থেকে ফুল ও নিমপাতা সংগ্রহ করে একে একে চলে আসেন কাপ্তাই হ্রদে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ প্রার্থনা করে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের সূচনা করেন তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা নববর্ষকে বিদায় জানানোর এই অনুষ্ঠান তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত। এই উৎসব চাকমা জনগোষ্ঠীর কাছে বিজু নামে, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে বৈসুক, মারমা জনগোষ্ঠীর কাছে সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর কাছে বিষু এবং কোনো কোনো জনগোষ্ঠীর কাছে বিহু নামে পালিত হয়।
১৩ এপ্রিল ও চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় ‘মূল বিজু’। এদিন ঘরে ঘরে রান্না হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’। তা দিয়ে দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী সাংগ্রাই জল উৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বৈসাবী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
বৈসাবী উৎসবের আনন্দ-উচ্ছ্বাস পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা সবার।
এএন