মাগুরায় দুটি বেসরকারি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে তেল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হলেও খুচরা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ না করে নির্দিষ্ট একটি চক্রের কাছে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
এতে সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। অভিযোগে থাকা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ফাতেমা ফিলিং স্টেশন (ভিটাসাইর) এবং আরাফাত ফিলিং স্টেশন (জাগলা)। দুটি পাম্পের মালিক মোহাম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা ডিপো থেকে নিয়মিত তেল উত্তোলনের পরও সপ্তাহের অধিকাংশ দিন পাম্পে ‘তেল নেই’ অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু একই সময়ে গোপনে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে পাম্প এলাকায় দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হচ্ছে, ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছেন।
আজ দুপুরে মাগুরা টেক্সটাইল মিল গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় করে অবৈধভাবে তেল সরবরাহের সময় অভিযান চালিয়ে ৩০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত তেলের আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার ৫১০ টাকা। এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক রাকিব এবং তেলের মালিক হিসেবে শ্রীপুরের দোসতিনা গ্রামের মো. রুবেলের নাম জানা গেছে। অভিযানের সময় তেল বহনে ব্যবহৃত খালি ড্রাম ধ্বংস করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ফাতেমা ফিলিং স্টেশনে বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের দূরে রাখা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, “স্থানীয় কিছু লোক জোর করে এসে তেল নিয়ে যায়, আমরা বাধা দিতে পারি না।” তবে তাঁর এ বক্তব্যকে দায় এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, “অবৈধভাবে তেল মজুদ বা সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, আজ ওই পাম্প থেকে বিক্রি হওয়া ৩০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ক্রেতাদের ভাষ্য, জ্বালানি খাতে এমন সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম শুধু ভোক্তা ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং বাজার ব্যবস্থাপনাকেও অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এএন