নাটোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ, শোভাযাত্রা ও সংস্কৃতিতে মুখর জেলা

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানাবিধ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাটোরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, যা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

দিবসের শুরুতে সকাল সাড়ে ৭টায় নাটোর শহরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক রানী ভবানীর রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, লোকজ মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটিকে এক প্রাণবন্ত উৎসবে রূপ দেন।

শোভাযাত্রা শেষে রাজবাড়ীর উন্মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, যা দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই অংশগ্রহণকারীদের জন্য পান্তা-ভাতসহ হরেক রকমের গ্রামীণ খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার খায়েরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জেলা প্রশাসনের মূল আয়োজনের পাশাপাশি নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণেও পৃথক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উৎসব নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে নাটোরে নতুন বছরের শুভ সূচনা হয়েছে।

জেএইচআর