ময়মনসিংহে এক সংসদ সদস্য তাঁর কার্যক্রমে বাধা ও হামলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হলে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
তিনি এ ঘটনার জন্য উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার এবং তাঁর সমর্থকদের দায়ী করেন। এমপি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তাঁর ইফতার মাহফিলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাঁকে সংসদীয় এলাকায় প্রবেশে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও প্রতিনিয়ত প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বিরূপ আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার এমপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দাবি করেন, ওইদিন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং সেখানে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ভাষ্য, “কোনো সংঘর্ষ হয়নি, বরং ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়া হয়। এছাড়া হুমকির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এএন