ময়মনসিংহের ভালুকায় সিনিয়র সিভিল জজের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা হাজী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া মৌজার এসএ ১৫০ নং দাগে ৪৩ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় জৈন উদ্দিন গং এবং বিবাদী হাজী রমজান আলী ও জালাল উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল, যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এই সুযোগে বিবাদীপক্ষ ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সিনিয়র সিভিল জজ সাইফুল ইসলামের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি ভুয়া ‘স্থিতাবস্থা’ (স্ট্যাটাস কু) বা আদেশপত্র তৈরি করেন এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানোর চেষ্টা করেন। এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে তারা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করেন।
পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, এমন কোনো আদেশ ওই দপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি। অর্থাৎ, সরকারি সিল ও জজের স্বাক্ষর হুবহু নকল করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। সেই আদেশের কপি জাল প্রমাণিত হওয়ায় ওই চক্রের বিরুদ্ধে জৈন উদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়া বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা (নং-২০, তারিখ: ১০.০৪.২০২৬) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নম্বর আসামি হাজী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
জৈন উদ্দিন গং জানান, ওই আদেশের কপি ও ভালুকা মডেল থানার এসআই মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানোর জন্য আসলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তা ওই দপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি। অর্থাৎ, সরকারি সিল ও জজের স্বাক্ষর হুবহু নকল করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভালুকা মডেল থানার এসআই মোশারফ হোসেন জানান, হাজী রমজান আলী কোর্টের ওই অর্ডার কপি নিয়ে এমনভাবে জালিয়াতি করবে তা ভাবতেও অবাক লাগে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে মূল হোতা রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জালাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এএন