রংপুরে চাঁদাবাজি ও নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শরিফুল ইসলাম, রংপুর প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

রংপুরে চাঁদাবাজি ও নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন নির্মাণ শ্রমিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকালে টাউন হল থেকে সিটি বাজার এলাকার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, নগরীর প্রাইম হাসপাতাল এলাকার দেওডোবায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে তারা। পাশাপাশি শ্রমিকদের হুমকি ও মারধরের মতো ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ এমনই একটি ঘটনায় এক শ্রমিককে মারধর করা হয়। আহত ওই শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের বিভাগীয় সদস্য সচিব আল আমিন।

তিনি বলেন, “রংপুরে নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েই চলেছে। শ্রমিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”

“শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ সেই শ্রমিকরাই আজ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতিত। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এ সময় মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, “শ্রমিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রতিবাদ সভায় শ্রমিক নেতারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম বাবু, তাজুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আরিফ হোসেন, মশিউর রহমান, রায়হান ইসলাম, ইলিয়াস ইলি, হেলাল মিয়া, কদম আলী, রিপন সরকার, সুমন মিয়া, সাইদুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা।

এ কর্মসূচিতে রংপুর বিভাগের আট জেলার নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন, যা শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

রংপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

এএন