চুয়াডাঙ্গায় পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা: মানা হচ্ছে না ফুয়েল কার্ড, উধাও ট্যাগ অফিসার

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারদের অনুপস্থিতি এবং ফুয়েল কার্ডের নিয়ম উপেক্ষা করে তেল বিক্রির ফলে সাধারণ মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে তেল সরবরাহ শুরু হলেও বেলা ১১টার পর অধিকাংশ পাম্পে ট্যাগ অফিসারদের পাওয়া যায় না। চুয়াডাঙ্গা সদরের মেসার্স চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত ট্যাগ অফিসার এস এম আবুল ফজলকে পাওয়া যায়নি। এই সুযোগে পাম্প কর্তৃপক্ষ ফুয়েল কার্ডের নিয়ম তোয়াক্কা না করেই অবাধে তেল বিক্রি করছে। একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনেও; সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়; কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও অনেক পাম্পে প্লাস্টিকের বোতলে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সিরিয়াল ভঙ্গ করা এবং অন্যের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে তেল সংগ্রহের মতো ঘটনা এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাম্পগুলোতে মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই প্রভাবশালীরা নিয়ম ভেঙে তেল সংগ্রহ করছেন।

আলমডাঙ্গার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসাররা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্দেশনা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে এবং পুলিশ প্রশাসনও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেএইচআর