মুজিবনগর দিবসে সরকারি কর্মসূচি না থাকায় নাগরিক সমাজের ক্ষোভ

মেহেরপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক উদ্যোগ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের এমন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক আবু সাইদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান জানাবেন না বা একাত্তরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন না, এটি মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের এ বিষয়ে দ্রুত বোধদয় হওয়া উচিত এবং আগামীতে কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও দাবি করেন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্যগুলো পুনরায় স্থাপন করতে হবে এবং এই ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, তখনকার গণমাধ্যমে এই সরকারকে অস্থায়ী সরকার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মূলত এটি ছিল প্রথম সাংবিধানিক সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই সরকার গঠিত হয়েছিল। 

তিনি ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হবে। এ সময় সেখানে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টায় মুজিবনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকেও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা হাজী আহসান আলী খাঁন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের উপজেলা সভাপতি মোখলেছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মুজিবনগর দিবসের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জেএইচআর