হাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের স্কিনশট ফাঁসের ঘটনায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:২২ পিএম

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক ছাত্রদল কর্মীর ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল ও শহীদ আবরার ফাহাদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম সুজন ইসলাম। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী বাবুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গত ১৮ এপ্রিল সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীর ইনবক্সে অনৈতিক প্রস্তাব ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে এবং এর কিছু স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্র জানায়, ওই স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে রোববার বিকেলে জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রদল নেতা অর্ণবের অনুসারীরা অভিযুক্ত সুজনকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আবরার ফাহাদ হলের ছাত্রদল নেতা মেহেদী বাবুর অনুসারীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই গ্রুপের ১২ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন ইসলাম বলেন, সামনে অর্থনীতি ক্লাবের নির্বাচন। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে ছড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান জানান, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জেএইচআর