পেকুয়ায় জোয়ারের পানির ধাক্কায় বিধ্বস্ত স্লুইসগেট

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির ধাক্কায় বিধ্বস্ত হয়েছে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারস্থ স্লুইসগেট। এতে ভাঙা স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে অন্তত এক হাজার একর লবণের মাঠ তলিয়ে গেছে। ফলে কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন হাজারো লবণ চাষি। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে এমন বিপর্যয়ে কয়েক হাজার লবণ চাষির সারা বছরের উপার্জনের স্বপ্ন নোনা জলে বিলীন হয়েছে। এর আগেও কয়েক দফা স্লুইসগেটটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মগনামা কাটাফাঁড়ি ব্রিজ সড়ক-উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটিঘাট সড়কের সোনালী বাজারস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ৬৪/২ বি পোল্ডারের ৪১ নম্বর স্লুইসগেটটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। রবিবার সকালে ও দিবাগত রাতে জোয়ারের তোড়ে স্লুইসগেটটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হু হু করে পানি লোকালয় ও লবণ মাঠে ঢুকে পড়েছে। রাতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় লোকজন কৃত্রিমভাবে পানি আটকানোর চেষ্টা করেও কাজে আসেনি। চাষিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাঠের স্তূপ করা লবণ এবং উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা ‘বেড’গুলো তলিয়ে যায়। এতে শতাধিক ছোট-বড় বিনিয়োগকারীসহ কয়েক হাজার প্রান্তিক চাষি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

লবণ চাষি গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ঋণ নিয়ে লবণ মাঠের চাষ করছি। এমনিতে লবণের দাম কম, তার ওপর কয়েক দফা জোয়ারের পানিতে লবণ তলিয়ে গেছে। চারদিকে অন্ধকার দেখছি।”

আরেক লবণ চাষি নন্না মিয়া বলেন, “২ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করছি। বিক্রির জন্য প্রস্তুত শত শত মণ লবণ ছিল। পানিতে মাঠ ডুবে যাওয়ায় সব লবণ নষ্ট হয়ে গেছে। না খেয়ে মরতে হবে। স্লুইসগেটটি যেন আমাদের অভিশাপ।”

লবণ ব্যবসায়ী এয়ার মুহাম্মদ বলেন, “চাষিরা শেষ হয়ে গেছে। ধার-কর্জ নিয়ে তারা লবণ চাষ করছে। লবণের দামও কম। শেষ সময়ে এসে পানিতে তলিয়ে গেছে লবণ মাঠ ও হাজার হাজার মণ উৎপাদিত লবণ। আমরা যারা বিনিয়োগকারী আছি, আমাদেরও চরম ক্ষতি হয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তোলিত লবণের স্তূপ জোয়ারের তোড়ে গলে গেছে এবং মাঠ প্লাবিত হওয়ায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্লুইসগেটটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকলেও সংস্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ চাষিদের।

স্থানীয় চাষি হারুন, শফিউল করিম, কালু, আজিম মেম্বারসহ ভুক্তভোগীরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা এবং স্লুইসগেটটির স্থায়ী সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, জোয়ারের তোড়ে স্লুইসগেটটি ভেঙে চাষিদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা আমি নিজে সরেজমিনে দেখে এসেছি। এটি এলাকার অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা চলছে।

এএন