ঢাকার আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন দৈনিক সমাচারের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি গোলাম সাব্বির আহমেদ। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এ সময় নিজ এলাকার পূর্বপরিচিত আলামিন হোসেন (ডিপজল)-এর সঙ্গে পূর্বের আলোচিত কিছু বিষয় জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন গোলাম সাব্বির। এ সময় আলামিন বাসার নিকটস্থ “রফিকের টেক” মাঠে আসতে বলে তাকে। সেখানে আলামিনসহ একই এলাকার রানা, আকাশ ও রাসেল উপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রথমে স্বাভাবিক কথোপকথনের একপর্যায়ে হঠাৎ সোহাগ সেখানে হাজির হয়। তারপর অতর্কিতে কোমর থেকে ছুরি বের করে গোলাম সাব্বিরের মাথায় কয়েকটি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রানা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর ও সোহাগের ছোট ভাই সজিব এসে যুক্ত হয় এবং তাকে বাধা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পুনরায় এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় রিকশাওয়ালা ও তার মায়ের সহযোগিতায় পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত হাবিব ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় তাকে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে।
কিছুটা সুস্থ হলে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত সাংবাদিক।
এ বিষয়ে সাংবাদিক গোলাম সাব্বির আহমেদ বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে সোহাগের ছোট ভাই সজিব মাদ্রাসার দুজন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ছিনতাইয়ের সময় পুলিশে খবর দেওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করেন। এছাড়া, আশুলিয়া থানায় তার পূর্বের দায়েরকৃত মামলার সঙ্গেও এই হামলার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হামলাকারী সোহাগ, জাহাঙ্গীর ও সজিব সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক ছিনতাই ও মাদক মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগে ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের এক অভিযানে সজিবসহ এই চক্রের বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে আটক করে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে বের হয়।
সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে সংঘটিত এই হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ধর্ষ এই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএন