কিশোর-কিশোরীদের প্রাণশক্তি, শৃঙ্খলা ও স্বপ্নকে ক্রীড়ার মাঠে রূপ দিতে মাগুরায় শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন হবে আগামী ২ মে।
এই আয়োজনে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে (জন্মতারিখ ১ মে ২০১২ থেকে ২ মে ২০১৪-এর মধ্যে)। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক হয়ে জাতীয় পর্যায়ে।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট ও সাঁতার, এই আটটি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে; তবে একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে অনলাইনে যাচাইকৃত জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং অভিভাবকের সম্মতিপত্র। আগ্রহীদের notunkurisports.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের শেষ সময় ২৭ এপ্রিল ২০২৬।
মো. আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মাগুরা বলেন, “শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ‘নতুন কুঁড়ি’ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়ন গড়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।” জেলা ক্রীড়া অফিসের এক কর্মকর্তা যোগ করেন, “তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতায় এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে দারুণ উদ্দীপনা। মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলে, “আমি ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছি। নিজের জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারা আমার স্বপ্ন।” একইভাবে বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার জানায়, “অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেব। এমন সুযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত।”
অভিভাবকদের মধ্যেও এই আয়োজন নিয়ে ইতিবাচক সাড়া রয়েছে। অভিভাবক কামাল হোসেন খান বলেন, “বাচ্চারা মোবাইল ছেড়ে মাঠে ফিরুক এটাই চাই। এমন আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
আয়োজকরা মনে করছেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬’ শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি কিশোরদের স্বপ্ন দেখাবে, দলগত চেতনা শেখাবে এবং একটি সুস্থ, সক্রিয় প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খেলাধুলা যখন অভ্যাসে পরিণত হবে, তখনই গড়ে উঠবে আগামীর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।
এএন