নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপুতা হাওরে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে কৃষকদের মাঝে আনন্দের বদলে চরম দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। জলাবদ্ধতা, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং শ্রমিকের অভাব এই ত্রিমুখী চাপে পড়ে সোনার ফসল ঘরে তোলা এখন কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চৈত্র মাস থেকে শুরু হওয়া আগাম বৃষ্টির ফলে হাওরের নিচু জমিগুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে, প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং কাঁচা ধান নষ্ট হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক জায়গায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ফসলের মান ও ফলন উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। কর্দমাক্ত ও জলমগ্ন জমিতে মেশিন চালানো সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে হাতে ধান কাটতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে ধান কাটার খরচও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ শেষে কৃষকের লাভের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
হাওরে ধান কাটার জন্য প্রায় ২৫০টি হারভেস্টার মেশিন চললেও জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলায় নিজস্ব কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় কৃষকদের পার্শ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলার পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর শাকুর সাদী জানান, হাওরে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। এ পর্যন্ত ১৫৫ জন কৃষককে ডিজেলের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে এবং আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আরও ৩০-৩৫ জনকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি হারভেস্টারের জন্য ১০০ লিটার করে ডিজেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার অধিকাংশ উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের। জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে যাতে যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ধান কাটা সম্পন্ন করা যায়।
বর্তমানে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। হাওরপাড়ের মানুষের দাবি, সরকারি সহায়তা ও তদারকি আরও জোরদার করা হলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
জেএইচআর