নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ, উধাও ঠিকাদার: ভোগান্তিতে ৫ গ্রাম

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে চৌদ্দশত-পুলেরঘাট, জালুয়াপাড়া, নেহারদিয়া ও গোবিন্দপুরসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া-নেহারদিয়া ও গোবিন্দপুর সংযোগ সড়কের মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এতে সড়কে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ হাজার ৭২০ মিটার সড়ক নির্মাণে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল ঠিকাদার কাজ শুরু না করে অন্য এক ঠিকাদারের কাছে তা বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, নতুন ঠিকাদার তার নিজস্ব ইটভাটা থেকে নিম্নমানের তিন নম্বর রাবিশ ব্যবহার করে কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসী এতে বাধা দিলে ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে নির্মাণ সরঞ্জাম নিয়ে চলে যান।

চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি নিজে অনিয়ম দেখতে পাই। ঠিকাদারকে মানসম্মত সামগ্রী দিয়ে কাজ করতে বললে তিনি অসহযোগিতা করেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ সীমাহীন কষ্টে আছেন।

অভিযুক্ত ঠিকাদার শামীম জানান, স্থানীয়দের সাথে মতবিরোধ হওয়ায় তিনি কাজ বন্ধ রেখেছেন।

তবে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম ইকবাল মুন্ন বলেন, ঠিকাদারের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ শেষ করার দাবিতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জেএইচআর