লোডশেডিং কবলে নাগরপুর উপজেলা, বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থী ও শিশু-বৃদ্ধ

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

চলমান তীব্র দাবদাহে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলাজুড়ে পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়, অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার দুটি সাবস্টেশনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতির কারণে উপজেলাজুড়ে দৈনিক প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নাগরপুরসহ আশপাশের এলাকায়।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানায় পরীক্ষার্থীরা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকরাও। অন্যদিকে, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ফ্যান চলে না, ফলে রোগীরা গরমে ছটফট করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিন-রাত বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও মানসম্মত সেবা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই অসহ্য গরমে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে নাগরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম নয়ন চন্দ্র সরকার জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

জেএইচআর