“কারেন্ট যায়, ঘাম ঝরে- হাতপাখাতেই শান্তি ভরে।” গ্রামবাংলার এই সহজ ছন্দ যেন আবারও নতুন করে শোনা যাচ্ছে মহেশপুরের ঘরে ঘরে। তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে যখন জীবন হাঁসফাঁস, তখন তালপাতার সেই চিরচেনা হাতপাখাই হয়ে উঠেছে স্বস্তির শেষ ঠিকানা।
নাস্তি এলাকার শাকিব মোড়ে পাখা প্রস্তুতকারক শ্রী বিকাশ বলেন, “এবার শুধু গরম না, কারেন্টের যন্ত্রণায় মানুষ আবার পাখার দিকেই ফিরছে সকাল থেকে বানাই, বিকেলেই সব শেষ।” তার কথায় বোঝা যায়, সময় বদলালেও প্রয়োজনের কাছে পুরোনো জিনিসের দাম কখনো কমে না।
সস্তার বাজার, ভৈরবা বাজার, সামন্তা বাজার, জিন্দানগর বাজার, খালিশপুর বাজার ও পুড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তালপাতা, বাঁশ আর রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কোথাও ছোট, কোথাও বড়; কোথাও সাদামাটা, কোথাও রঙের ছোঁয়ায় নান্দনিক। আর সেইসব পাখার সামনে ক্রেতাদের ভিড় ঠিক যেন ছোট্ট কোনো গ্রামীণ মেলা।
গোপালপুর গ্রামের বদরুজ্জামান বলেন, “কারেন্ট না থাকলে ঘরে থাকা দায়, তাই একটা না কয়েকটা পাখা নিচ্ছি।”
ফতেপুর বেঁড়ের মাঠ এলাকার মো. শাহিনের ভাষায়, “বাচ্চা-বুড়া সবাই কষ্ট পায়, তাই পাখা ছাড়া উপায় নাই।”
২৫ বছরের অভিজ্ঞ বিক্রেতা শ্রী শৈলেন দাস জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদা অনেক বেশি। “মানুষ আবার আগের দিনের মতো পাখার দিকেই ফিরতাছে।” তার কণ্ঠে যেন সময়ের গল্প যেখানে আধুনিকতার ভিড়েও গ্রামবাংলার পুরোনো সঙ্গী হারিয়ে যায় না।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার সবাই এখন সহজ, সাশ্রয়ী আর নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে হাতপাখাকেই বেছে নিচ্ছেন।
তালপাতার এই পাখা শুধু গরমে বাতাস দেয় না, দেয় গ্রামবাংলার স্মৃতি, মাটির গন্ধ আর এক টুকরো ঐতিহ্যের স্পর্শ। আধুনিকতার কোলাহলের মাঝেও তাই মহেশপুরের গ্রামগঞ্জে হাতপাখা আবার ফিরে পেয়েছে তার আপন জায়গা নীরব সঙ্গী হয়ে, গরমের দিনে একটু স্বস্তির হাওয়া হয়ে।
এএন