টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে দুই দিনে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার এবং রবিবার সখীপুর পৌরসভা ও কালিয়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৯ শিশু ও ১০ নারী রয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার দুপুরে কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামে কয়েকজনকে কামড় দিয়ে কুকুরটি সখীপুর পৌর শহরের দিকে প্রবেশ করে। এরপর আন্ধি থেকে উত্তরা মোড় পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে কামড়ায়।
আজ সকালে কুকুরটি পুনরায় কালিয়া, ঘোনারচালা ও দামিয়া এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে একাধিক নারী ও শিশুকে রক্তাক্ত করে। আহত খন্দকার হাবিবুর বলেন, নাতনিকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে কুকুরটি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে ও পথচারীদের আক্রমণ শুরু করে।
আহতদের মধ্যে ৪৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীমা আহমেদ জানান, কামড়ের ক্ষতগুলো বেশ গভীর। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে কালিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এলাকায় একের পর এক কুকুরের কামড়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এই পাগলা কুকুরটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেএইচআর