মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের নেবুলাইজার সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাসুদ হাসান খান কিজিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি স্ট্যান্ড নেবুলাইজার মেশিন ওয়ার্ডে স্থাপন করেন। এর ফলে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা শিশুদের চিকিৎসায় কিছুটা গতি ফিরেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে মাত্র একটি নেবুলাইজার মেশিন সচল ছিল। ফলে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের গ্যাস দেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হতো। জরুরি অবস্থায় থাকা শিশুদের সেবা দিতে গিয়েও হিমশিম খেতে হতো চিকিৎসক ও নার্সদের। সেবা নিতে আসা এক শিশুর অভিভাবক কামাল হোসেন বলেন, “আগে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত গ্যাস পাওয়া যেত না, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হতো। এখন নতুন মেশিন হওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে।
নেবুলাইজার স্থাপনকারী মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, শিশুদের কষ্ট দেখে নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এমন জরুরি সরঞ্জাম সরকারের পক্ষ থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে নিশ্চিত করা উচিত।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ওয়ার্ডে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসে, তাতে একটি মেশিন দিয়ে চাপ সামলানো অসম্ভব ছিল। নতুন মেশিনটি যুক্ত হওয়ায় সেবার মান কিছুটা উন্নত হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামের এমন সংকট থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্যক্তি উদ্যোগে সাময়িক সমাধান এলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি টেকসই নয়। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।
মেশিন স্থাপনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রিপন আকাশ অপু, সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হান এবং কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আলী মির্জাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
জেএইচআর