কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।
জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে এই ভাঙন রোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ ও শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেয়।
নদী পাড়ের এই মানববন্ধনে প্রিয় স্কুল হারানোর আশঙ্কায় শিশুদের চোখেমুখে ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও কান্নার ছাপ।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছিয়া বেগম ও শাহাবুরের মতো বৃদ্ধরা তাঁদের শেষ সম্বল ভিটা হারানোর ভয়ে আর্তনাদ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা নওশের আলী জানান, প্রতি বছর ভাঙন দেখলেও এবারের তীব্রতা সব শেষ করে দেওয়ার মতো।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার ও রাব্বির কণ্ঠে ঝরে পড়ে প্রিয় স্কুলটি বাঁচানোর আকুতি। তারা জানায়, স্কুলটি নদীতে চলে গেলে তাদের পড়াশোনা ও বন্ধুদের সাথে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা গৃহহীন হয়ে বারবার ঠিকানা বদলালেও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায় না।
তিনি অবহেলিত এই জনপদে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যক্ষ খাজা শরীফ রিন্টুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার ১৬টি নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, দ্রুত এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা হবে।
তবে নদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে এই উদ্যোগ কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক ও সংশয় বিরাজ করছে।
জেএইচআর