বৈশাখ মাসের শেষ দিকে দেশজুড়ে চলা টানা ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলহানি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও ধান উৎপাদনে আশার আলো দেখাচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা।
দেশের অন্যতম প্রধান এই খাদ্যভাণ্ডারে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর। তবে কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের প্রচেষ্টায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
সম্প্রতি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে।
ময়মনসিংহ কৃষি খামারবাড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. উম্মে হাবিবা বলেন, জেলায় বর্তমানে ১৯১টি হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও দ্রুত ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা উল্লেখ করেন, বৃষ্টির কারণে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হলেও হারভেস্টারের কারণে দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে। আগে যেখানে দিনের পর দিন শ্রমিকের অপেক্ষা করতে হতো, এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফসল কাটা ও মাড়াই শেষ হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ও যান্ত্রিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ময়মনসিংহের হারভেস্টার মডেল সারা দেশে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
জেএইচআর