দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ, পদ্মা-মেঘনায় আশানুরূপ মিলছে না ইলিশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবারও মাছ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে চষে বেড়াচ্ছেন তারা। দীর্ঘ কর্মবিরতি শেষে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতে জেলেদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও প্রথম দিন আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার সকাল থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন পর ইলিশের পাইকারি কেনাবেচা শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। 

এতদিন ঝিমিয়ে থাকা মাছঘাট আবারও হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠলেও সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার চেয়ে কিছুটা ছোট ওজনের মাছ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ নিয়ে আসা জেলে শেখ ফরিদ ও ইয়াছিন জানান, দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর অনেক আশা নিয়ে নদীতে নেমেছিলেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত মাছ মেলেনি। যেটুকু পাওয়া গেছে তা দিয়ে নৌকার খরচ ওঠানোই দায়। তবে বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লে সামনে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন তারা।

এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা মাছের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে ইলিশসহ অন্য কোনো মাছের দেখা নেই। আড়তদার ও বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। প্রবীণ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল জানান, সকাল থেকে বসে থাকলেও জেলেরা মাছ নিয়ে আসতে পারছে না। অপর ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় অনেক জাটকা নিধন হয়েছে, যার প্রভাব এখন মাছের সরবরাহে পড়ছে।

ঢাকা থেকে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা আশিকুর রহমান নাঈম জানান, ছুটির দিনে মাছঘাটে ঘুরতে এসে ইলিশের চড়া দাম দেখে তিনি হতাশ। সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ইলিশ কেনা এখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা সাধারণের নাগালের মধ্যে আসবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা জেলেদের জাটকা ধরার সুযোগ দেইনি। জাটকাগুলো বড় হলে ইলিশে রূপান্তর হবে। এখন ইলিশ কিছুটা কম পাওয়া গেলেও এর সুফল এখানকার জেলেরা খুব শীঘ্রই পাবেন।

জেএইচআর