ঝড়-বৃষ্টিতে ধানক্ষেতে শঙ্কা, আড়াই মণ ধানে মিলছে একজন শ্রমিক

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

বৈশাখের শেষ দিকে টানা ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী জেলা ময়মনসিংহে এই দুর্যোগের মাঝে কৃষি উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নানামুখী সংকট।

শ্রমিক সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সময়মতো ডিজেল না পাওয়ায় ধান মাড়াই কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি ক্ষেতে জমে থাকায় পচন ধরার ভয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জেলার মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা বোরো ধান কাটায় ব্যাঘাত ঘটেছে। কোথাও জমিতে পানি জমেছে, আবার কোথাও ঝড়ে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শ্রমিক সংকট এতটাই প্রকট যে, আড়াই মণ ধানের বিনিময়েও একজন শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে করে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার প্রায় ৩ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি ময়মনসিংহের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক ড. উম্মে হাবিবা জানান, শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলায় জেলায় বর্তমানে ১৯১টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ধান কাটার কাজে সক্রিয় রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, হারভেস্টার মেশিনগুলো সঠিক সময়ে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলে ফসলের ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব হতো। তারা জানান, যেখানে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সময় লাগে, সেখানে আধুনিক যন্ত্রে কয়েক ঘণ্টাতেই কাজ শেষ করা যায়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

জেএইচআর