টাঙ্গাইলের মধুপুরে গত দুদিনের টানা ভারী বর্ষণে প্রায় ৫০০ বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অরণখোলা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী হাওদা বিল এলাকায় এই অকাল বন্যায় কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কৃষি বিভাগ প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হেক্টর বা ৩০০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওদা বিলের নিচু ও মাঝারি জমিতে বছরে একবারই ধান আবাদ হয়। কাকরাইদ, সাইনামারি, ভুটিয়া, গাছাবাড়ী, জলছত্র, পিরোজপুর ও বলাইদপাড়াসহ আশপাশের প্রায় এক ডজন গ্রামের মানুষ এই বিলের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ধান কাটার কথা থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে কৃষকদের স্বপ্ন ধুলিস্মাৎ হয়ে গেছে।
বলাইদ পাড়া গ্রামের কৃষক আ. আজিজ ও শাহীন মিয়া জানান, এই বিলে পলি মাটির কারণে ফলন অনেক ভালো হয়। কিন্তু মাঠের পাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় এখন তাঁরা নিঃস্ব। ঋণের কিস্তি আর সংসারের খরচ কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জবেদা বেগমের মতো অনেক কৃষাণী। তারা এখন সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের কিছু ধানি জমি ডুবে গেছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি যাতে পানি বের হওয়ার পথগুলো পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং পানি নামতে দেরি হলে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মধুপুর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে হাওদা বিল অঞ্চলের চাষিদের।
জেএইচআর