নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুহুরি নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথে ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর এবং আমজাদহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের শত শত কৃষকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর এবং আমজাদহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুরের কৃষকদের জমি নদীর পূর্ব পাশে ধর্মপুর অংশে এবং ধর্মপুরের অনেক পরিবারের জমি এপাশে রয়েছে। পশ্চিমে জগতপুর ও শ্রীচন্দ্রপুর অংশে পড়েছে। ধর্মপুরে জমির পরিমাণ প্রায় ১২০ একর ও জগতপুরে প্রায় ৫০ একর। যাতায়াতে ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকো ডুবে যায়।

এতে দুই পাড়ের কৃষকদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াতে অনেককে বাড়তি খরচ গুনতে হয়।

আবদুল খালেক মুন্সী নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “এখানে নদী পারাপারে মানুষের অনেক কষ্ট হয়। নদীর ওপাশে অনেক জমি। অনেকে ব্রিজ না থাকায় কৃষিকাজ করতে দিনদিন আগ্রহ হারাচ্ছেন। সাময়িক যাতায়াতের জন্য স্থানীয়রা একটি সাঁকো তৈরি করেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। তাও বেশি পার হওয়া যায় না। এ কারণে কৃষিতে অনেকে অনীহা প্রকাশ করছেন।”

স্থানীয় কৃষক রুস্তম মিয়া বলেন, “আমার বাড়ি নদীর পাশে। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি মানুষ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। পূর্বপুরুষরা আরও কষ্ট করেছে। আমরাও কষ্ট করছি। এ সাঁকোর ওপর আমরা পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু এখানে কাঁদা বেশি থাকায় খুব ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।”

কবির আহমেদ নামে আরেক কৃষক বলেন, “এখানে মরিচ, করলা, কুমড়াসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করা হয়। এ বয়সেও কষ্ট করে সাঁকো দিয়ে আসতে হয়। বর্ষাকালে কষ্ট দ্বিগুণ হয়। আমরা একটি ব্রিজ চাই।”

আলমগীর নামে এক ভুট্টা চাষি বলেন, “আমার ভুট্টা বৃষ্টির কারণে ভালো যোগাযোগ না থাকায় সরাতে পারিনি। ঘুরে পার করতে হয়। এখানে সাঁকো দিয়ে ঠিকমতো পার করা যায় না। ভুট্টা চাষে আমার ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, এখন ২০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারব না। ওপাশের প্রায় ৫০০ পরিবারের জমি এখানে। আমরা চাই এখানে একটি ব্রিজ হোক।”

আসলাম হোসেন সানি নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের জন্য কষ্ট করছি। দুই গ্রামে প্রায় ১ হাজার পরিবারের বসবাস। ব্রিজ না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এখানে ওপাশে প্রায় ১২০ একর জমি রয়েছে, যেখানে ধান ও সবজি চাষ করা হয়। আমরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি এবং এমপি মহোদয়কেও জানিয়েছি, যাতে দ্রুত একটি ব্রিজ হয়।”

এএন