মোবাইল ফোন ছাড়াই আত্মগোপনে ছিলেন সেই মাদ্রাসা শিক্ষক, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রযুক্তি ফাঁকি দিতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সংস্থাটির অধিনায়ক নয়মুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, র‍্যাব-১৪ এই ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে ঘাতক শিক্ষক আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমানুল্লাহ প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে এসে বিষয়টি বুঝতে পারেন।

পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করেন। এছাড়া, শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করা চিকিৎসককে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব জানায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ডিএনএ রিপোর্ট সম্পর্কিত তথ্যটি সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলেও নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

জেএইচআর